সিলেটে জলস্তর কমার পর সদাপথর পর্যটন কেন্দ্র পুনরায় খুলেছে
সিলেট, বাংলাদেশ: বন্যা ঝুঁকির কারণে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার মাত্র একদিন পরেই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সদাপথর দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের উজানের এলাকাগুলো থেকে সাম্প্রতিক পাহাড়ি জলপ্রবাহের আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে জলের স্তর কমে যাওয়ায় এবং পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সোমবার আকর্ষণীয় স্থানটি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারতীয় পার্বত্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রবল স্রোত ও জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক জলস্ফীতির কারণে পর্যটন অঞ্চলের কিছু অংশ ও নিকটবর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, ফলে পর্যটকরা আবারও এই মনোরম গন্তব্যস্থলে ভ্রমণ করতে পারবেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
প্রতিকূল আবহাওয়া এবং জলের প্রবল স্রোত থেকে সৃষ্ট সম্ভাব্য বিপদের উদ্বেগের কারণে রবিবার প্রাথমিকভাবে এটি বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে আবহাওয়ার উন্নতি হলে এবং এলাকাটি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ হলে স্থানটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, উজানের অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সাদাপাথর এলাকায় প্রবল জলস্রোত সৃষ্টি হয়, যাতে আশেপাশের দোকানপাট ডুবে যায় এবং দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সাময়িক বন্ধের কারণে পর্যটন-নির্ভর স্থানীয় ব্যবসাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুনরায় খোলার বিষয়ে বলতে গিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং জলস্তর হ্রাস পাওয়ায় এলাকার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দর্শনার্থীদের এখন পর্যটন কেন্দ্রটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে অবস্থিত সাদাপাথর সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্রাকৃতিক আকর্ষণ, যা তার স্বচ্ছ জল, সাদা পাথরের তলদেশ এবং মনোরম দৃশ্যের জন্য পরিচিত। প্রতি বছর, বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে, এই গন্তব্যস্থলে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে।
এদিকে, উজানের স্রোতের কারণে বাড়তে থাকা পানি সিলেটের বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে, যেখানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দারা সতর্ক রয়েছেন।
