ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ – চলচ্চিত্র তারকা সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কে ঢাকার একটি আদালত চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূল উন্নয়ন
-
২০ অক্টোবর, ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতের একজন বিচারক সালমান শাহের মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে দেওয়া পূর্বের শ্রেণিবিন্যাস বাতিল করে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
-
২১শে অক্টোবর, রমনা মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী হলেন অভিনেতার মামা, যিনি অভিনেতার মায়ের পক্ষে মামলাটি করেছেন।
-
এই মামলায় অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সোশ্যালাইট লতিফা হক লুসি এবং অভিনেতা ডন হকসহ এগারো জনকে অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে।
-
আদালত পুলিশকে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
-
অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে: আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং অভিবাসন চেকপয়েন্টগুলোকে অভিযুক্তদের কাউকে দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পটভূমি
সালমান শাহ – যার আসল নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন – তাঁর তারকাখ্যাতির তুঙ্গে থাকাকালীন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার নিউ ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। সেই থেকে এই মামলাটি বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। যদিও প্রাথমিক ও পরবর্তী তদন্তে মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা বলে রায় দেওয়া হয়েছিল, অভিনেতার মা দীর্ঘদিন ধরে এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছেন।
এর মানে কী
এই পদক্ষেপটি মামলাটিতে কয়েক দশক ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর বিচার বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন করে গুরুত্ব আরোপের ইঙ্গিত দেয়। মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে পুনঃশ্রেণীবদ্ধ করে এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে যে নতুন করে তদন্ত প্রয়োজন। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তদন্তের সময়সীমা এই গতিকে আরও জোরদার করে।
সামনে যা বাকি আছে
-
অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ শীঘ্রই গ্রেপ্তার হবে কিনা।
-
ঘটনাটির পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তদন্তে নতুন ফরেনসিক বা সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যাবে কিনা।
-
আদালত কীভাবে জামিনের আবেদন, জেরা এবং কয়েক দশক পুরোনো সাক্ষ্যপ্রমাণের অখণ্ডতা পরিচালনা করে।
-
এই নতুন গতি অভিনেতার পরিবার এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা জনসাধারণকে সন্তুষ্ট করতে পারবে কিনা।
নতুন করে শুরু হওয়া আইনি উদ্যোগ অনেকের মনে এই আশা জাগাচ্ছে যে, ২৯ বছর পরেও হয়তো সালমান শাহের মৃত্যুর পেছনের সত্যটা অবশেষে সামনে আসবে।
