সিলেট, বাংলাদেশ — গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত একটি দুর্ঘটনায় বিমানের একটি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বুধবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের মতে, বিমানটিতে ২৬০ জনেরও বেশি যাত্রী আরোহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল, এমন সময় প্যাসেঞ্জার বোর্ডিং ব্রিজটি দুর্ঘটনাবশত ইঞ্জিন এলাকায় আঘাত করে। এই ধাক্কার ফলে প্রকৌশলীরা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইটটি থামিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালান।
“পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি চলাচল বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান উদ্বেগ,” বলেছেন বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা।
কারণটি তদন্তাধীন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ডিং ব্রিজটি বিচ্ছিন্ন করার সময় মানবিক ভুলের কারণে এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এর সঠিক কারণ নির্ণয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থা কর্তৃপক্ষ উভয়ই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে।
সকল যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি রক্ষণাবেক্ষণ দলের পরিদর্শনাধীন রয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রতিস্থাপন বিমান পাঠানো হয়েছে
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে একটি বিকল্প বিমান পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন বিমানটি আটকে পড়া যাত্রীদের লন্ডনে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনেক যাত্রী বিমান সংস্থাটির নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, দীর্ঘ বিলম্ব এবং টার্মিনালের ভেতরে সময়মতো হালনাগাদ তথ্য না পাওয়ায় কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা এবং ভূমি পরিচালনা সংক্রান্ত উদ্বেগ
এই ঘটনাটি বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে। যদিও বেশিরভাগ যাত্রী ফ্লাইট নিরাপত্তাকে আকাশে কাটানো সময়ের সাথে যুক্ত করেন, তবে জ্বালানি ভরা, লাগেজ হ্যান্ডলিং এবং ব্রিজ পজিশনিং-এর মতো গ্রাউন্ড অপারেশনের সময়ও অনেক পরিচালনগত ঝুঁকি ঘটে থাকে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ভূমিতে ঘটা সামান্য দুর্ঘটনাও বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের বিলম্ব, আর্থিক ক্ষতি এবং সুনামের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
বিমানের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিশ্চিত করেছে যে, সিলেট ও অন্যান্য প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চতর নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে তারা গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে এবং কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিমান সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
লন্ডনগামী ফ্লাইটটি বাতিল হওয়ায় অসুবিধা হলেও, বিমানের দ্রুত পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধতা বিমান চলাচল মহলের অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সূত্র: এভিয়েশন ডেস্ক | হালনাগাদ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
