প্রকাশ্য স্পট ৩০ সিলেটে হাত বাড়ালেই ইয়াবা

সিলেটে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা। সিলেটের অন্তত ৩০টি স্পটে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। গত এক মাসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চারটি চালান আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্ত করতে না পারায় নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ইয়াবার বিস্তার।

সিলেটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে কঙ্বাজার হয়ে ইয়াবা সিলেটে আসে। সিলেটের অন্তত ৩০টি স্পটে শতাধিক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রি করে থাকে। ইয়াবা বিক্রেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারীও রয়েছে। গত এক মাসে সিলেটে অভিযান চালিয়ে চারটি ইয়াবার চালান আটক করেছে পুলিশ। সর্বশেষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সালুটিকর থেকে ইয়াবার চালানসহ একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে নগরীর সোবহানীঘাট, জিন্দাবাজার ও লালদীঘিরপাড় থেকে তিনটি চালান আটক করা হয়।

এদিকে রাজধানীতে ইয়াবায় আসক্ত মেয়ের হাতে সস্ত্রীক পুলিশ কর্মকর্তা খুন হওয়ার পর সিলেটের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের ৩০টি স্পটে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। নগরীর স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে লালদীঘির পাড়, জল্লারপাড়, জিন্দাবাজার, সিটি সুপার মার্কেট, মির্জাজাঙ্গাল, তালতলা, টিবি গেট, বাদাম বাগিচা, ছড়ারপার, কীন ব্রিজের নিচ, কল্যাণপুর, ভাটপাড়া, চৌকিদেখি, মদিনা মার্কেট, কদমতলী, চাঁদনীঘাট, ওভার ব্রিজের নিচ, বাবলার কলোনি, রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, টেকনিক্যাল রোড ইত্যাদি।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সিলেটে আসে ইয়াবা। এর পর সিলেটের ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্কিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্পটে। ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে তরুণরা আসক্ত হয়ে পড়ছে এ নেশায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া অনেক তরুণীও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

জানা যায়, সিলেটের মাদকাসক্ত পুরুষদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য বেশ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকলেও নারীদের চিকিৎসা প্রদান করা হয় কেবল আরআর মেডিকেল হাসপাতাল ও শাহজালাল মানসিক স্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্রে। এই দুটি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের অনেক ইয়াবা আসক্ত তরুণীও তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপ-কমিশনার নূরে আলম বলেন, সিলেটে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। মাঝে-মধ্যে ইয়াবার চালান আটক হলেও এ ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।